রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান কখনও অর্ধসত্য, কখনও পুরোপুরি অসত্য বলছেন।




নন্দ দুলাল বিশ্বাস, 

নেতা শিক্ষাবন্ধু যৌথ মঞ্চ।

এবি বঙ্গনিউজ,

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীকে ভুল পথে পরিচালনা করতে চাইছেন। 

এক্ষেত্রে কখনও তিনি অর্ধসত্য বলছেন, আবার কখনও তিনি পুরোপুরি অসত্য বলছেন। 

মিথ্যাটাকে তিনি এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন যে, এই বিষয়ে রীতিমতো কৃতিত্বের দাবি করতে পারেন। 

গোয়েবলসকে যদি " মিথ্যার প্রবক্তা " হিসাবে ধরা হয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন " মিথ্যার জাদুকর " অর্থাৎ" আধুনিক মিথ্যার রানী।"কারণ পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তিনি পার্শ্বশিক্ষক,শিক্ষা বন্ধু সহ অস্থায়ী কর্মচারীদের অনশন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ফলের রস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করিয়েছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে স্থায়ীকরণ করবেন। 

অথচ তিনি আজ সম্পূর্ণভাবে তা অস্বীকার করছেন। সারা পৃথিবী জুড়ে, শিক্ষাগত যোগ্যতাকেই বেতন কাঠামোর একমাত্র মানদন্ড হিসেবে ধরা হয়, অথচ পশ্চিমবঙ্গে তিনি এক আজব তুঘলকী ব্যবস্থার প্রচলন করেছেন। 

একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক। দেখতে ফর্সা হলে বেতন বেশি, কালো হলে বেতন কম। কারণ সরকার একই অফিসে দুজন পোস্ট গ্রাজুয়েট কর্মীকে নিয়োগ করলেন, একজনের বেতন 30 হাজার টাকা আর অন্যজনের বেতন 7000 টাকা। মহম্মদ বিন তুঘলক বেঁচে থাকলে হাঁসতে হাঁসতে তাঁর মাথার মুকুটটি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মাথায় পরিয়ে দিতেন। 




একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট সরকারি কর্মচারীকে 7000 টাকা বেতন দিয়ে তিনি শুধু তাকেই অসম্মানিত করছেন এমন নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটাকেই অসম্মানিত করছেন। আসলে সুকৌশলে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাইছেন। 

দুর্ভাগ্যের হলেও সত্যি,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে "বাংলার মা " হিসেবে প্রতিপন্ন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই রাস্তায় হাঁটলেন না। 

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাংলায় সবচেয়ে করুণ অবস্থা স্কুল ইনস্পেক্টর অফিসে নিয়োজিত শিক্ষা বন্ধুদের। তাদের সঙ্গে সরকার শুধু বঞ্চনা করেননি, রীতিমতো অংক কষে প্রতারণাও করেছেন।

 আবার তিনি বলছেন, পূর্বতন সরকার এত দেনা করে গেছেন তাই তিনি ধুঁকতে থাকা, মৃতপ্রায় সরকারি কর্মচারীদের বেতনবৃদ্ধি করতে পারছেন না। 

পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার যখন বিদায় নিচ্ছেন, তখন দেনাদার রাজ্য হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের স্থান ছিল 14 তম অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের আগে আরও 13 টি রাজ্য ছিল, যারা পশ্চিমবঙ্গের থেকেও বেশি দেনা করেছেন। 

কিন্তু সেই দেনাদার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীগণও সুন্দরভাবে রাজ্য চালাচ্ছেন। যদি পূর্বতন সরকারের দেনা কেই দায়ী করা হয়, তাহলেও সেই দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বহন করতে হবে। 

কারণ তাঁর পূর্বতন দল কংগ্রেস ও অতীতে 30 বছর এই রাজ্য শাসন করে গেছেন। আর বর্তমানে তিনি ক্ষমতায় আসার পর এত দেনা করেছেন যে, দেনাদার রাজ্য হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থান অধিকার করে নিয়েছে। 

তাই কখনো অর্ধসত্য বলে আবার কখনো পুরোপুরি অসত্য বলে জনসাধারণকে ভুল বোঝানো যাবে না। 2011 সালে তিনি যখন ক্ষমতায় এলেন,তখন একজন মন্ত্রীর বেতন ছিল 4,000 টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর বেতন ছিল 7 হাজার টাকা, অথচ এখন একজন মন্ত্রীর বেতন 1 লক্ষ 15 হাজার টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বেতন 1 লক্ষ 17 হাজার টাকা। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে যোগ করলে অংকটা দাঁড়াবে পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ টাকায়। 

তাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবেনা।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...