গণতান্ত্রিক-ন্যায্য আন্দোলনে বার-বার পুলিসের দমন-পীড়ন আজ ইংরেজ আমলের পুলিসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
যেভাবে গণ আন্দোলনে পুলিস লাঠি-গুলি, জলকামান, টিয়ার গ্যাস, কিল-চড়, ঘুষি,লাথি চালাচ্ছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সভ্য সমাজে চলতে পারে না।
রাতের অন্ধকারে আলো নিভিয়ে যে নির্মম পৈশাচিক আক্রমন পুলিস নামিয়ে নিয়ে এসেছে তা আমাদের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যা কান্ডকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
চরম বঞ্চনা, নৈরাজ্য ও বিমাতৃসুলভ আচরনের প্রতিবাদে যারাই রাস্তায় নামছেন, পুলিস মন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের পুলিস তাঁদের উপর হিংস্র আক্রমন নামিয়ে আনছেন।
শিক্ষাবন্ধু ,কম্পিউটার শিক্ষক, ভোকেশনাল শিক্ষক, এস.এস.কে, এম. এস.কে, আশাকর্মী, আই.সি.ডি.এস, প্যারাটিচার প্রভৃতি, সরকারের রোসানল থেকে বাদ যায়নি কেউই।
যেভাবে পুলিস উচ্চ শিক্ষিতা মহিলা শিক্ষাকর্মীদের ( শিক্ষাবন্ধু ) রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি লাঠিপেটা সহ কিল,চড়,ঘুষি লাথি মারতে মারতে প্রিজন ভ্যানে তুলেছে, এটা একমাত্র সন্ত্রাসবাদীদের পক্ষেই সম্ভব।
রাজ্যের পুলিস এখানেই থেমে থাকেনি, শান্তিপূর্ণ মিছিল করার অপরাধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে পুলিস কাষ্টডিতে নিয়ে এসে সীমাহীন অত্যাচার নামিয়ে এনেছে।
আজ বাংলায় কারোরই কথা বলার কোনো অধিকার নেই। বাক্ স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। অথচ এই মুখ্যমন্ত্রী অতীতে যখন বিরোধী দলনেত্রী ছিলেন, তখন ছাব্বিশ দিন ধরে ন্যাশনাল হাইওয়ে অবরোধ করে রেখেছিলেন। আর আজ অবরোধের কথা বাদ দিন, রাস্তায় দাঁড়াতেই দিচ্ছেন না।
অথচ অতীতে তিনি বলেছিলেন, কোনো গণ আন্দোলনে লাঠি-গুলি চালাবেন না। তাই বাংলা আজ এক ভয়াল-ভয়ঙ্কর খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।
কাঁদছে বাংলা-মা।
তাই বাংলার আপামর মানুষ আজ হাতে গোনা গুটিকয়েক প্রকৃত প্রতিবাদী মানুষের দিকে তাকিয়ে বসে আছেন।
অতীতেও তাঁরা বাংলা তথা ভারতকে পথ দেখিয়েছেন, আর আজ আবার নতুন করে বাংলাকে বাচাঁতে তাঁদেরকেই কান্ডারীর ভূমিকা পালন করতে হবে।
নাহলে বাঁচবে না বাংলা।
তাঁরা হলেন শঙ্খ ঘোষ, অপর্ণা সেন, বোলান গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, অশোক গাঙ্গুলী, মিরাতুন নাহার,পল্লব কীর্তনীয়া এবং বাংলার কোনে কোনে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি প্রতিবাদী মানুষ। আর অবশ্যই বয়সজনিত কারনে নেতৃত্ব দিতে হবে কৌশিক-পল্লবদের।
পথ চেয়ে আছি আমরা।

