পুলিশি তাণ্ডবের প্রতিবাদে শিক্ষা বন্ধুদের কর্মবিরতির আজ অন্তিম দিন :নন্দুলাল দাস।




এবি বঙ্গনিউজ।


শিক্ষাবন্ধু যৌথ মঞ্চের নেতা নন্দদুলাল দাসের প্রতিবেদন।
 বর্বর পুলিশি তাণ্ডবের প্রতিবাদে শিক্ষা বন্ধুদের কর্মবিরতির আজ অন্তিম দিন : ভবিষ্যতে আছড়ে পড়তে চলেছে আরও বড় আন্দোলন। যেভাবে রাজ্য সরকারের পুলিশ শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর বর্বরোচিত আক্রমণ নামিয়ে এনেছেন তাকে নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। 

মিছিলে অংশগ্রহণকারী নিরীহ, নিরস্ত্র, হাজার হাজার মিছিলকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ার গ্যাস,প্রভৃতির মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারের পুলিশ ইংরেজ সরকারের পুলিশের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।





 যেভাবে পুলিশ মিথ্যা মামলায় সরকারি কর্মচারীদের আটক করে জেলে পুরেছেন, স্বাধীনতার পর ভারতবর্ষের অন্য কোনও রাজ্যের পুলিশ তা করেছেন কিনা ইতিহাসের পাতা উলটে দেখতে হবে। 

তাই রাজ্য সরকারের দমন-পীড়ন, সীমাহীন বঞ্চনা ও বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদে লাগাতার কর্মবিরতির মধ্য দিয়ে শিক্ষা বন্ধুরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন তারা ছাড়া অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিস আসলে অকেজো।



 আসলে শিক্ষা বন্ধুগণ হল অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। অথচ শতাব্দীর সেরা বঞ্চনার শিকার রাজ্যের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে নিযুক্ত হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত শিক্ষা বন্ধুগণ।
 শিক্ষা বন্ধুদের প্রতি রাজ্য সরকারের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে সংগঠনের অন্যতম কনভেনার নন্দ দুলাল দাস জানিয়েছেন রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা বন্ধুদের নিয়ে তারা "পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষাবন্ধু যৌথ মঞ্চ" নামে একটি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। 

অভিযোগ সর্বশিক্ষা মিশনের সমস্ত কর্মচারীদের বেতনকাঠামো শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে নির্ধারিত হয়েছে। বঞ্চিত একমাত্র শিক্ষাবন্ধু সমাজ। তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে পদদলিত করা হয়েছে। 

পরিসংখ্যান তুলে ধরে শ্রী দাস আরও জানিয়েছেন, সর্বশিক্ষা মিশনের একজন "গ্রুপ-ডি" কর্মী, যিনি অষ্টম শ্রেণী পাশ, বেতন পান 15000 টাকা,একজন "গ্রুপ সি" কর্মী (উচ্চ মাধ্যমিক পাশ) বেতন পান 19 হাজার টাকা। আবার মিশনের একজন গ্রাজুয়েট কর্মী বেতন পান 25 হাজার টাকা এবং একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট কর্মী বেতন পান 30 হাজার টাকা।


 অথচ উচ্চশিক্ষিত একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষা বন্ধু কর্মী হাতে পান মাত্র সাত হাজার টাকার সামান্য কিছু বেশি (7336/-)। যদিও অন্য রাজ্যে এটা ষাট হাজার টাকার ঊর্ধে।
 বঞ্চনার এখানেই শেষ নয়। সর্বশিক্ষা মিশনের অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ যারা কম টাকা বেতন পেতেন, (যেমন পার্শ্ব শিক্ষক, এস.এস. কে, এম.এস.কে, প্রভৃতি) তাদের একটা থোক টাকা বাড়িয়ে রাজ্য সরকার একটা জায়গায় আনার চেষ্টা করেছেন।

 (যদিও তা নগণ্য) কিন্তু সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্য সরকার শিক্ষা বন্ধুদের ক্ষেত্রে পার্সেন্টেজে নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করেছেন। সর্বশিক্ষা মিশনের সমস্ত কর্মচারীবৃন্দ বর্ধিত বেতন 1 বছরের এরিয়ার হিসাবে পেয়েছেন। অর্থাৎ অন্যান্যদের ক্ষেত্রে বর্ধিত বেতন 1 বছর আগে থেকে লাগু হয়েছে। 

কিন্তু শিক্ষা বন্ধুদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তাদেরকে এরিয়ার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আবার, পার্শ্বশিক্ষক প্রাথমিক, পার্শ্ব শিক্ষক উচ্চ প্রাথমিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা, বেতন কাঠামোও আলাদা ; কিন্তু শিক্ষাবন্ধু প্রাথমিক ও শিক্ষাবন্ধু উচ্চ প্রাথমিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা হলেও বেতন কাঠামো একই। অর্থাৎ শিক্ষাবন্ধুদের ক্ষেত্রে একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট ও একজন গ্রাজুয়েট কর্মীকে একই বেতন ( 7336 টাকা ) দেওয়া হচ্ছে।

 পশ্চিমবঙ্গের কথা বাদ দিন, ভারত তথা পৃথিবীর কোথাও এমন হয় না জানাচ্ছেন, শ্রী দাস। তাই খুব শীঘ্রই বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা, একথা জানাতেও ভোলেননি তিনি।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...