এবি বঙ্গনিউজ।
সোনার গয়না ও টাকা ভর্তি ব্যাগ রাস্তায় হারিয়ে যাওয়ায় শ্বশুর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন এক গৃহবধু।
প্রায় একমাস বাদে ওইব্যাগ ফিরে পেয়ে বাপের বাড়ি থেকে আবারো সন্তান কোলে স্বসম্মানে স্বামীর ভিটেয় ফরলেন ওই গৃহবধু।
উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এর ঘটনা। জানা গেছে, রায়গঞ্জের রূপাহারের গোয়ালদহর বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর জরিমুদ্দিন আলির স্ত্রী আমিনা বেগম প্রায় মাস খানেক আগে কোনো এক বিকেলে রায়গঞ্জ শহরে বাজার করতে আসেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় অসাবধানতা বশত তার হাতে থাকা ছোট একটি ব্যাগ রাস্তায় পড়ে যায়।
এদিকে সেই ব্যাগে ওই মহিলার গলার সোনার মালা এবং বেশ কয়েক হাজার টাকাও ছিল। কিন্তু বাড়ি গিয়ে ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ায় ব্যাপারে বলতেই তখন তার স্বামী এবং শ্বশুর তাকে সোনার গয়না হারিয়ে ফেলার দায়ে ঘারধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ।
শুধু তাইই নয় সোনার গয়না আর টাকার ব্যাগ খুজে পেলে তবেই তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয় বলে অভিযোগ। এমনকি তার বাবা জামাইকে টাকা দেওয়ার কথা বললেও তাতে তারা রাজী হয়নি বলে অভিযোগ। আর তারপর থেকে প্রায় একমাস যাবত রূপাহারে বাপের বাড়িতেই আশ্রিতা ছিলেন ওই গৃহবধু।
এদিকে সামনের টোটোয় বসে থাকা এক মহিলার হাত থেকে ব্যাগ পড়ে যেতে দেখেন ঘটনার সময় দেবীনগর এলাকার রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য আরেক টোটো চালকের।
এরপর ওই এলাকার এক মহিলাকে ডেকে ওই টোটো চালক ব্যাগটি খুলে দেখে মহিলাকে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলে চলে যান। এরপর ওই মহিলা ব্যাগে সোনার গয়না ও নগদ কিছু টাকা সহ কৃষি দফতরের দেওয়া চেকের রসিদ দেখতে পেয়ে ব্লক কৃষি দফতরে যোগাযোগ করেন।
তারপর ওই সরকারি অফিস থেকেই মহিলাকে ফোন করে তার সোনার ব্যাগ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেবীনগর এলাকায় ডেকে এনে টোটো চালকের উপস্থিতিতে ওই মহিলা গৃহবধূর হাতে সোনার ব্যাগটি ফেরত দেন।
তবে বিরল হলেও মানবিকতার প্রমান স্বরুপ এই সেই ছবি ক্যামেরা বন্দী হয়ে রইল আমাদের কাছে। যা কিনা আগামী ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এবং আমাদের দর্শকদের মনে মানুষ হিসেবে একে অপরের পাশে দাড়ানোর আরো অনেক শক্তি যোগাবে।
তবে শুধু এই টাকা বা সোনার ব্যাগ ফেরত দেওয়াটার পাশাপাশি এই ব্যাগ ফেরত পেয়ে ওই গৃহবধু যেমন ফিরলেন তার স্বামীর ভিটেয়, ঠিক তেমনই ওই প্রায় একমাস ধরে মায়ের সাথে বিতারিত ছোট্ট শিশুটিও তার নিজের বাড়ি ফিরল।
তবে এত কিছুর পরও এদিন তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই গৃহবধূর স্বামী।
তবে এই ধরনের ঘটনা খুব কম চোখে পড়লেও মাঝেমধ্যেই বিবেক চেতনার মানুষেরও খোজ মেলে এটাই তার আরো একটি বড় প্রমান হয়ে থাকবে।
বাইটঃ১) অমিনা খাতুন( গৃহবধূ)
২) আয়েনাক বেগ ( গৃহবধূর বাবা)
৩) অপর্না চন্দ ( উদ্ধার কারি মহিলা)
৪) জরিমুদ্দিন আলি ( স্বামী গৃহবধূর)


