না জ মু ল হ ক , ----------------------
----
ফি বছরের ন্যায় এবছরও রইসদ্দি চাচার বিরাট দায়িত্ব। হন্তদন্ত অবস্থা। মহল্লার কুরবানির জন্যে প্রায় গোটা দশেক গোরু আর দু পাঁচটা ছাগল পুরোটাই একহাতে কিনতে হয় তার।
এক পয়সা মজুরি তো দূর অস্ত,উপরন্তু নিজের কাজে কামের ক্ষতি করে পাব্লিকের জুতসই কুরবানির পশু কিনে দিয়ে তিনি বেশ তৃপ্তি পান।
এবছর আর খান দুয়েক কিনলে নিস্তার।মাঝের গাঁয়ে একখান গোরুর সন্ধান পেয়ে ছুটলেন।
চিত্তর গোরু, মানে চিত্ত প্রামাণিকের । মাঠের মাঝারেই দরাদরি।
রইসদ্দি বড় এক কথার লোক। কিন্তু গোরুর দর নিয়ে চিত্ত টলেনা।
এদিকে গোরুটাও বেশ নজরকাড়া।
মিঞা রইসদ্দি ও অনড়। দামের সাথে না মেলায় রইসদ্দি ছেড়ে আসছে এমন সময় চিত্ত মানে চিত্ত প্রামাণিক বলে ওঠে -- 'চাচা শ্যাষ বার আমার একখান দাবী রেখেয়েন।এই কুড়ি বাইশ দিনের খোরপোশের খরচা দেওন লাগবেনা।
ভালো কাজে নিয়ে যাবেন আমি ভালো যত্নেই খাওয়াবো।আমার আলাদা একপয়সা লাগবেনা।
তবে আমার দামডাই দিয়েন।'
রইসদ্দি চাচা থমকে যায়। দেশ কাল পরিস্থিতি চাচা ভালোই জানেন। তায় এই অজপাড়া গাঁয়ের মাঠে আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে আজকের দিনেও চিত্ত প্রামাণিকের 'ভালো কাজে' কথাটা নিমেষে বিলীন করে দেয় সমস্ত দর কষাকষি র হিসাব।
রইসদ্দি বলে-'আমি আর কিছুই বুঝিনা চিত্ত, বোঝলাম একজন ভালো লোকের গোরু কিনছি।
তোমার দামই দিব।'
আর কেউ জানেনা চিত্ত - রইসদ্দির এই বাক্যালাপ।
পকেট থেকে পাঁচশো টাকার নোটে চিত্তর দামেই রইসদ্দি বায়না করে দেয়। আর একটাও কথা নয়। চিত্ত শুধু বলে ওঠে- চাচা তবে ঐ এক দুদিন আগে এসে নিয়ে যেয়েন।
----------
