নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ,
এবি বঙ্গ নিউজ:
দুই বছর আগে হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচন্ডী বাস টার্মিনাস তৈরীর জন্য রাজ্য সরকার বরাদ্দ করেছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। কিন্তু ওই এলাকায় বাস টার্মিনাস তৈরির কাজের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছেন বাসিন্দারা।বাম আমল থেকেই আদিবাসী অধ্যুষিত হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচন্ডী বাস টার্মিনাস তৈরি হওয়া নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই এলাকার বাস টার্মিনাস তৈরি করা নিয়ে উদ্যোগী হয় । ২০১৭ সালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বুলবুলচন্ডী বাস টার্মিনাসের শিলান্যাস করেন। আর এই জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে বরাদ্দ হয় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সেই কাদাজলের মধ্যেই বাস চলাচল করছে বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
মালদা বাস ও মিনিবাস ওনার্স এসোসিয়েশনের সম্পাদক নিমাই বিশ্বাস জানিয়েছেন , হবিবপুর ও নালাগোলা রুটে প্রতিদিন প্রায় ৮৬ টি বাস চলাচল করে।এছাড়াও অন্যান্য যানবাহন তো রয়েছেই। হবিবপুর বাস টার্মিনাসের শিলান্যাস হয়েছে অনেক দিন হলো।কিন্তু এখনো ওই এলাকায় তেমন কোনো কাজ হয় নি। যার ফলে কোথাও রাস্তার ধারে, আবার কোথাও কাদামাটি মাখা জায়গার উপরে বাস দাঁড় করাতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত বুলবুলচন্ডী বাস টার্মিনাসের কাজ যাতে সম্পূর্ণ হয় । এরফলে যাত্রীদের সমস্যার মুখে পড়তে হবে না । ঠিক তেমনই বাসচালক, কর্মীরাও দুর্ভোগের মুখ থেকে রেহাই পাবেন।
উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মূর্মুর অভিযোগ, বুলবুলচন্ডী বাস টার্মিনাস কাজ কোথায় হচ্ছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। দুই বছর আগে এলাকায় বাস টার্মিনাস তৈরী কথা বলা হলেও এখনো কাজই হয় নি।
তৃণমূল পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, বাম জামানা থেকে উপকৃত ছিল বুলবুলচন্ডী বাসস্ট্যান্ডটি। তৃণমূল সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর আদিবাসী অধ্যুষিত ব্লকের মানুষদের কথা ভেবেই সেখানে বাস টার্মিনাস তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কাজও চলছে । এখন বিরোধীরা অনেক রকম কথা বলছে। এই বাস টার্মিনাসের কাজ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে । বিজেপির জনপ্রিয়তা ওই এলাকায় কমে গিয়েছে বলে এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে এরকম ভিত্তিহীন কথা বলছে। সাধারণ মানুষ থেকে নিত্য যাত্রী সকলের মুখে একটাই প্রশ্ন কবে হবে?
