নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: " আমরা দুবছর ধরে আর্ত মানুষদের পাশে আছি। কার এসআইআরের জন্য ফর্ম ফিলাপ , কার স্বাস্থ্য পরিষেবা বিনামূল্যে, কার আইনি পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, দুঃস্থ মানুষদের পড়ানো কিংবা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা। সবই বিনামূল্যে । কিন্তু এই কর্মসূচিতে সবই পরিষেবা দেওয়া হয় নিঁখুতভাবে। আধার পরিচয় পত্র দেখে। কিন্তু আমাদের এই কর্মসূচি হয় নিজেদের আর্থিক সাহায্যে । তাই আমাদের সবরকম সাহায্য চাই। চাই আর্থিক অনুদান। যাতে এই সেবামূলক কাজকে আরও দীর্ঘায়িত ও সার্বিকভাবে করা যায় । " বক্তা সেবার আলোর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তথা সর্বভারতীয় প্রধান সম্পাদক সেখ মুবারকের। শুক্রবার বিকেল । এখনও খুশির ঈদ আসেনি। তবু ঈদের আলো বেশ কিছু জায়গায় জ্বলতে শুরু করেছে। তার মধ্যেই খুশির বাতাস বইতে শুরু করেছে হাওড়ার সাঁতরাগাছি সুলতানপুর এলাকার কিছু দুঃস্থ মানুষদের খোলা জানালার কোলে। হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে ইফতার সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে সম্প্রীতির নজির গড়ল 'সেবার আলো'। "মোরা একই বৃত্তে দু'টি কুসুম, হিন্দু-মুসলমান"— বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই অমর পঙ্ক্তিটিকে যেন বাস্তবের মাটিতে রূপদান করল সাঁতরাগাছির ২ নম্বর সুলতানপুর বোকো পাড়ার সমাজসেবী সংগঠন 'সেবার আলো'। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়ল তারা।
জানা গিয়েছে, রমজান মাসের পুণ্যলগ্নে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে এলাকার শতাধিক দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিকটি ছিল ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে ওঠা। ইফতার সামগ্রী প্রাপকদের তালিকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া মানুষরাও ছিলেন। মানবতার এমন অপূর্ব মেলবন্ধন দেখে আপ্লুত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
সংগঠনের এই মহতী উদ্যোগ প্রসঙ্গে 'সেবার আলো'-র প্রতিষ্ঠাতা সেখ মোবারক বলেন, "সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন বজায় রাখতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।" উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর ধরে সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে মানবসেবা করে আসছে 'সেবার আলো' সংগঠনটি।
এদিনের এই সম্প্রীতির ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী মাসুদ আলম খাঁন। তিনি সংগঠনের এই অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি, আগামী দিনে 'সেবার আলো' যাতে আরও বেশি করে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে, তার জন্য সমাজের সকল সহৃদয় ব্যক্তিকে এই সংগঠনের পাশে দাঁড়ানোর বিনীত আহ্বান জানান তিনি।
ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে 'সেবার আলো'-র এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল, মানবতার কোনো ধর্ম হয় না। তাদের এই কাজ বর্তমান সমাজে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

