

অভিজিৎ হাজরা :- কলকাতা উর্দু অ্যাকাডেমি- র অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল " ক্যাডেট স্কাউট অ্যান্ড গাইড অ্যাকাডেমি ফাউন্ডেশন " এর প্রতিষ্ঠা দিবস পালন ও " শিক্ষা সচেতনতা " সেমিনার।এক ই সঙ্গে ওইদিন এই অ্যাকাডেমির উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ ইউনিটের শুভ সূচনা হয়। এই উপলক্ষে " শিক্ষা সচেতনতা " বিষয়ক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তথা মাইনরিটি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলি শাহ।
এছাড়াও অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফুটবলার সৈয়দ রহিম নবী, ফুটবলার মেহতাব হোসেন, ফুটবলার আলভিটো ডি কুনহা । ছিলেন " সোনার বাংলা " ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাবানা পারভিন, অভিনেত্রী সর্বাণী চ্যাটার্জী," এন আই এন " টি ভি - র এডিটর রেজওয়ান খন্দকার," আল কোরান অ্যাকাডেমি লন্ডন এর হুগলি জেলা কনভেনার সৈয়দ মোর্তুজা, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও উদ্যোগপতি শম্ভু ঘোষ,আবু সিদ্দিক মিদ্দে, সাজিদ গায়েন,
শিক্ষক শারাফত আলি মল্লিক, ক্যাডেট স্কাউট অ্যান্ড গাইড অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার স্কাউট ক্যাপ্টেন সেখ সফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য বিগত কয়েক বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি গ্ৰাম - বাংলার পিছিয়ে পড়া এলাকার সমস্ত সরকারি - বেসরকারি স্কুল - মাদ্রাসা - কলেজ - বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র -ছাত্রীদের মানসিক, শারীরিক ও নিজের আত্ন রক্ষার উন্নতির জন্য, সরকারি - বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে।
এই সংস্থার প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। ক্যাডেট স্কাউট অ্যান্ড গাইড অ্যাকাডেমি ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার ক্যাপ্টেন সেখ সফিকুল ইসলাম বলেন, " সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল -কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় - মাদ্রাসার ছাত্র -ছাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক উন্নতির জন্য সরকারি - বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনীয় ও নিজের আত্ন রক্ষার জন্য বিশেষ ট্রেনিং এর প্রয়োজন। তাই স্কাউট ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে ও অন্যান্য ভোকেশনাল ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্সের শেষে ট্রেনিং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়,যা সরকারি ও বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বহু ছাত্র -ছাত্রী সরকারি - বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত " । তিনি এও বলেন, " এই সংস্থার মাধ্যমে ড্রিল, ড্রিল ম্যাচিং, প্রাথমিক চিকিৎসা (ফাস্ট এইড) ,যোগা - গেম- স্পোর্টস,পথ নিরাপত্তা,অগ্নি নির্বাপন,ক্যারাটে,নিজস্ব আত্নরক্ষা, ব্রতচারী, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, স্পোকেন হিন্দি, কৃষি বিষয়ক সচেতনতা, খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ও আইন সম্পর্কিত, দূর্ণীতি দমন বিষয়ক,মাদক ও পরিবেশ সংক্রান্ত সচেতনতা, বিভিন্ন সামাজিক কাজের সচেতনতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।
" শিক্ষা সচেতনতা " বিষয়ক সেমিনারে প্রত্যেক বক্তাই বলেন, " আজকের দিনে অভিভাবক - অভিভাবিকারা মনে করেন তাদের সন্তান -সন্ততিদের বেসরকারি স্কুলে পড়ালে তারা মানুষ হবে। এই ধারণাটা সম্পুর্ণ ভুল। বেসরকারী স্কুলে সন্তান -সন্ততিদের শিক্ষার মূল্যায়ন প্রকৃত হয় না। তাদের মানবিক - সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয় না। বেসরকারি স্কুলগুলি প্রচারের আলোয় আসার জন্য, পরবর্তী সেশনে বেশি ছাত্র -ছাত্রী পাওয়ার আশায় ছাত্র -ছাত্রীদের বেশি বেশি করে নাম্বার দিয়ে প্রচারে আসে। শিক্ষা ব্যবসা বাড়ানোর জন্য তারা সর্বদা সচেষ্ট থাকে। আর্থিক দিকটা মাথায় রেখে তারা এই কাজ করে থাকে।
ছাত্র -ছাত্রীর সংখ্যা বেশি না হলে তাদের ব্যবসা লাটে উঠবে।অপর দিকে সরকারি স্কুল গুলোতে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি তাদের সামাজিক - মানবিক, মানসিক , শারীরিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। এখানে ছাত্র -ছাত্রীদের সংখ্যা কম -বেশি হওয়ার কোনো প্রভাব পড়ে না। এখানে শিক্ষক - শিক্ষিকাদের মাসিক নিদির্ষ্ট একটা বেতন থাকে। সরকারি স্কুলে পড়েই সমাজের অনেক ব্যক্তি স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি - বেসরকারি চাকরি করছে। সমাজের উচ্চপদে আসীন আছেন। বরেণ্য কবি - শিল্পী - সাহিত্যিক - ঔপন্যাসিক,দেশনেতা, স্বাধীনতা সংগ্ৰামীরা সরকারি স্কুলেই পঠন - পাঠন করেছিল। অভিভাবক - অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তান -সন্ততিদের প্রকৃত শিক্ষিত, প্রকৃত মানুষ হবার জন্য সরকারি স্কুলে আপনাদের সন্তান -সন্ততিদের ভর্তি করুন। বক্তারা ছাত্র -ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা তোমাদের লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যাও। সেই লক্ষ্য ঠিক রাখতে, লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে অনেক সময় তোমরা হোঁচট খাবে,ফেল করবে। এতে হতাশ হবে না। নিরন্তর চেষ্টা কর।
একদিন তোমারা লক্ষ্যে ঠিকই পৌঁছাবে। বক্তারা ছাত্র -ছাত্রীদের মোবাইল ফোন থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। এই ফোন তোমাদের বিপথে চালিত করছে। তোমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে মোবাইল ফোন। তোমরা অতি প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার কর। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি গল্পের বই, উপন্যাস, বিভিন্ন মনীষীদের জীবনী পড়। খেলাধুলা, যোগব্যায়াম কর এতে শরীর,মন সুস্থ থাকবে। তোমাদের নিদির্ষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। এদিনের " শিক্ষা সচেতনতা " শিবিরে অভিভাবক - অভিভাবিকা, ছাত্র -ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।










